সন্দেহ
এসেছে দীঘল হাওয়া বন্ধ জানলার ওইপারে।
খুটখাট শব্দ করে, নড়ে যায় কড়া'র প্রহরা
সহসা উড়িয়ে দেয় জানলার ধুলোমাখা স্তব্ধশ্বাস আদিম রূপমা।
তাকে আসতে দেবার আগে ওড়না জড়িয়ে নিই গায়ে,
কাগজচাপার নিচে চাপা দিই কবিতাশহর,
আয়নার বুকে রাখি একবার স্বকীয় প্রতিমা -
যদিও জানিনা তার মনষ্কাম কোথায় কেমন,
তবুও সন্দেহের বশে এতসব আয়োজন সেরে
ধীরে ধীরে জানলায় হাত রাখি। ঠেলে দিই 'পারে,
যে'পারে সন্ধ্যামারীচের খেলা,
যে'পারে আজান রাখে সমস্ত পাখালি।
দেখি যে ততক্ষণে ফিরে গেছে হাওয়াটির মন।
শূন্য কথার কথা
আসলে সমস্ত কথা শেষ পর্যন্ত কোনো
পুরোনো সড়কের মতো থেমে গেছে বহুদূর গিয়ে।
মাইলফলকে লেখা মুছে গিয়ে তাদের যেখানে
কোনো নাম নেই, পরিচয়ও নেই।
মানে নেই অভিধাননিহিত।
কফি ব্লসমের মতো তাদের রঙীন হ'তে মানা ছিল যেন...
যেন স্লোগানের মতো তাদের তামাম অন্তঃসার
স্বার্থেই শূন্য হয়ে গেছে...
নতুন পুরোনো
নতুন সন্ধে এলে,
গেরস্ত পাড়ায়
বান্ধবী-চিহ্নিত
বাড়িসব সেজে ওঠে চায়ের বাসনে।
নিয়মিত সময় ব্যাবধানে
বারান্দার কোণ থেকে
জেগে ওঠে ধোঁয়ার
কুহক।
অপেক্ষা দীর্ঘ
ক'রে, নাতিদীর্ঘ টানে ধূম্রপান
মুলাকাত ক্ল্যাসিফাই
করে।
কে এখন কার পাশে
আছে তুমি জানো নাকি বিশুদ্ধ রাখাল?
অথবা কোথায় ঠিক
কেউ নেই ;
আন্তরিক প্লেগ
শ্রাবণ হাওয়ার
মতো ছুটে আসে ভেতরের ধানে
সন্ধে পুরোনো হলে
মজে ওঠা গেরন্ত পাড়ায়
বান্ধবী-চিহ্নিত
বাড়ি সেজে উঠলে চায়ের বাসনে
অভিযোজন
দোহারা বসন্তের গায়ে লেগে থেকে কথাব্রতী মেঘ
তাকে কিছু পৃথুলা করেছে।
তবু বৃষ্টির ক্ষমতা নেই তার। শুধুমাত্র শুষ্কতা আছে।
আছে এয়োস্ত্রীর মতো তার ফুলছাপ বসনের কপাল।
অম্বুবাচীর মতো শৈত্যের উদযাপন নেই।
সংসারের খোঁয়াড়ি তার সিঁথিতে রক্তিম হয়ে আছে।
আর সেই রক্তিমতা, ভেতরের সবুজে মিশে
বসন্তকে বাদামী করেছে।
সে তার নিজস্ব রঙ মনে করতে পারেনা এখন।
উপবাস
ভুল উচ্চারণের মতো কানে বিঁধে আছ
কিছুতেই ছাড়াতে পারিনা।
চেষ্টাবিধৌত খাতে, জমা কথা ভেসে যায়
ভেসে আসে পুনর্বার - কবিতাপ্রণালী বলে ডাকি।
উন্নত গ্রীবার মত অভিমান বড় স্বাভিমানী
তবু দুপুরলাঞ্ছনা তাকে উপোসীর রূপে এঁকে রাখে।
যেকোনো ভুলের স্মৃতি, ঠিকের চেয়েও কিছু
বেশি জেগে থাকে। রাতের অন্ধকারে জোনাক যেমন।
জ্বলে... নেভে... জ্বলে... নেভে... উষ্ণতা দিতে পারে না।

Khub valo laglo shridarshini .... Ony rakom lekha....
ReplyDeleteOnek dhonyobad o shubhechchha
ReplyDelete