Thursday, August 29, 2019

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়: নিশি পাওয়া কবিতা


সারারাত প্রার্থনা

সারারাত গান
ভেসে আসে জ্যোৎস্নায়;

সারা রাত প্রার্থনা!

সারা রাত কাঁপে
নিশি-পাওয়া চন্দন;

সারা রাত উপবাস।








আমি প্রথম বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পড়ি প্রায় বালিকাবয়সে।না, টেক্সট পড়িনি তখনও। ওঁর কবিতা গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন বিনয় চক্রবর্তী। সুরকার কে, মনে নেই।ওর হাতে একটা বাজনা ছিল,দোতারা বা তেমনই কিছু হবে। অবাক হয়ে,এই এখনও গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, লিরিক্স শুনছিলাম। প্রথম গান,অন্ন বস্ত্র...আর, দ্বিতীয় গান, একদিন মাকে দিয়েছিলাম দোষ...
তারপর তো পরে, অনেক পরে চিনলাম, জানলাম,বই পড়লাম। আমার একটা অদ্ভূত অনুভূতি হয়েছে ওঁর কবিতা পড়তে গিয়ে। অনেকেই হয়তো একমত হবেন না আমার সঙ্গে। খুব রোমান্টিক প্রেমিক কবি মনে হয়েছে। কিন্তু প্রেম জ্যোৎস্নায় ডুবে মরার আগেই বিপন্ন বাস্তব, সন্ত্রাসের বাস্তব তাকে রক্ত মাখিয়ে দেয়। ভেঙে দেয় কুহক।মায়া আর অ্যান্টি-মায়ার এই বিবাহ, বোধহয় ওঁর পক্ষেই ঘটানো সম্ভব হয়েছিল।
আমার সামনে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা। সারারাত প্রার্থনা,আর, আধখানা।
জ্যোৎস্নায় গান ভেসে আসে। প্রার্থনা হয়ে সে আসে।চন্দন এখন তার নান্দনিকতা মুছে ফেলে নিশি-পাওয়া শুধু।আর, তারপরই আসবে সেই অমোঘ লাইনটি : সারারাত উপবাস। আজীবন আপোষবিহীন কবি জ্যোৎস্না, গান,চন্দন, মৃদুস্বরে-বলা প্রার্থনাও এমনকী,সব উপেক্ষা করে ঘুরে দাঁড়িয়ে উপবাস দেখেন!

আধখানা
আধখানা মুখ আয়নাতে
আধখানা মুখ তোর হাতে;
আধখানা মুখ রোদ ভাসায়
আধখানা তার কান্নাতে। 

আর, অন্য কবিতা আধখানা।এও সেই প্রেম অপ্রেমের মেলবন্ধন।এমন দুঃসময়, যখন, ভূত প্রেত নাচছে,রাজা দেখাচ্ছে প্রলোভন, তখন শুধু আধখানা মুখ আয়না ছাপিয়ে করতলে এসে নামে।সেও তো ক্ষণিকের জন্য।ঘোর কেটে গেলেই দেখা যাবে আধখানা মুখ অশ্রুর ঘরে বসে আছে।

No comments:

Post a Comment

একঝলকে

সম্পাদকীয়-র পরিবর্তে

সে চেয়েছিলো একটি সত্যিকারের প্রেমের কবিতা লিখতে। তার তো একটাই জীবন। মানুষের জীবনে প্রেমের চেয়ে নির্মল পিপাসার জল আর কী থাকতে পারে? ...

পাঠকের পছন্দ