'সাংবাদিকের মা'
গর্ভজল
তুমি যখন গর্ভে ছিলে,সুরাহীন প্রহর তোমার
মায়ের কাছে ছিল আরব্য রজনী।তোমার শোণিতের গতি তার স্পন্দন বৃদ্ধির আগের ত্রিংশটি
দিন,রং না আলো কে বেশী ভালো,এই চর্চায় কেটেছিল বেশ।পরাক্রমী তোমাকে সন্তান রূপে
পেতে জনক বা পালক কোন দ্বিতীয় পুরুষের ঔরসের দায় ছিল না।সম্ভবতঃ সেই অহং তোমার
মাকে ঈশ্বরী করে তুলেছিল ক্রমে।তোমায় ধারণ ছিলো সাধন সমতুল।সেই ধারণায় অশ্টদশ
পক্ষ,পর্বত ও কন্দর,অরণ্য ও নদী,ভূমি ও আকাশ,অজিন হয়েছিল তার।চন্দ্রকলার মতো
মাতৃশরীর আর আত্মা ছেয়ে ক্রমে প্রকাশিত হচ্ছিলো তোমারই জন্ম
লক্ষণাবলী।ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ ও সংস্কারহীন তোমার মায়ের সুফিয়ানায় কোন বন্ধন
গ্রন্থি পড়েনি কোনদিন,না এলো চুলে না রক্ষা কবজে।বিরান বাতাসের নজর পড়েছিল কি?অথবা
ছুঁয়েছিল কোন রুদালি শ্বাস?নাহলে তুমি জন্ম নিলে দিগ্বিজয়ী,আর গোধূলির প্রমাদ
নয়,মুকুটের প্রমোদ ছিন্ন করলো নাড়ি বিজাতীয় শস্ত্রাঘাত?এপিটাফ লেখার ক্ষণে সূর্য
ওঠে এখন তার।বিস্মৃতির অতলে ডুবেছে কাব্য ইচ্ছেগুলি।রন্ধ্রে রন্ধ্রে বৃশ্চিক দংশনে
জিহাদের নামাবলি।কোন মেঘ আসবে নিভাতে চিতা বন্হিমান?যদি মানো পঞ্চ উপাদান মিলনে
সৃষ্টি এই দীন দুনিয়ার ,একথাও অভ্রান্ত জেনো, জল,প্রস্তর ও বনানী সাক্ষ্য দেবে জন্ম
পূর্বের সঙ্গমের তোমার ও মাতার।
একটি অস্তের কাহিনী
কর্মসূত্রে আসা যাওয়ার পথে 'বেইমান-দেউড়ি'
পড়ে। আকাশকে ব্যথা শোনানোর রাত পেরিয়ে প্রতি সকালে দেখি ক্ষয়িষ্ণু রক্ত রঙের ইঁটের
খাঁজে খাঁজে অজস্র মলিন বিশ্বাসঘাতকতা। পাঁজরে তীব্র দংশন ধবল কোন লক্ষী বাহনের
রূপে আসেনা।একাহারী শরীরের চোষক,সফল এক বাদুড় আত্মা থেকে উড়ে গিয়ে মিলিয়ে যায়
বিপুল আলোর উৎসবে।সিসে রঙের হাওয়ায় কান পাতলে প্রতিধ্বনি আসে শেষ স্বাধীনতায় কোন
যুদ্ধ হয়নি।পরিকল্পিত ছিলো প্রতারণা। প্রিয় বান্ধবীর কবিতায় 'ভালো' দস্তখত পড়ে
সাম্রাজ্যবাদী দক্ষতায়।সিরাজদের কোন ঈশ্বর থাকেনা। ক্ষমতার খেলা চলে ব্যভিচারি
আলেয়ায়।নেশাগ্রস্তের বমনে উঠে আসে সবুজ সন্দেহ,ঘৃণিত কৌশলের অপাচ্য মাধুকরি।কে
দাঁড় বেয়ে আনবে বর্ষা?মায়েরা জানেনা কীভাবে একই গর্ভ থেকে প্রসব হয় সন্ত ও
হত্যাকারী।
কালরাত্রি
আমি কখনো সামগান হতে পারিনি,যার উচ্চারণে
সামান্য কোন প্রাণ অলৌকিক হয়ে যায়,যাকে চিরন্তন অজপা করে নিয়তি নির্ধারিত
পুরুষ,যাকে কোনোদিন না প্রত্যক্ষের শ্বাস চেপে আগুন বা মাটিতে শেষ শান্তি খোঁজে
নিতান্ত জৈব সুখ।এখন বন্ধ্যাত্ব অতিক্রান্ত জড়তাকাল।সমাজে কোন সক্রিয় খাতা
নেই,আন্তর্জালিক কোন বেদিতেই মুখের প্রতিচ্ছবি নেই।পঞ্চষট চিতা যে বিভূতি উপহার
দিয়েছে তার তুল্য সন্ন্যাসবোধ নেই।তৃতীয় দাশরথী তার আসন ছেড়ে দিয়েছেন পরম
করুণায়।হে মায়াময়,বড় জানতে ইচ্ছে হয় কি ছিল অপরাধ।তোমার অমলিন সিংহাসন,উৎসবে জনসমাগম। বহুদিন দুয়ারে ছিলাম চাতক
প্রত্যাশায়।রবাহুতো ধ্বনি বিক্ষেপে নির্ঝরিনী নয়,শীতল লাভা প্রস্তরিভূত হলো
ধার্মিক দক্ষতায়।যারা কোনোদিন এসেছিল কুঞ্জ বিলাসে,নিজ নিজ সম্মানের পার্বণী বুঝে
নিয়ে কালের কলে সুরক্ষিত শিবিরে।তাদের কোরাস ও কমন সর্বনাম আজ প্রকট হলো
'শুভানুধ্যায়ী'। তাহলে শীত ও বসন্তের পলাশহীন জলে একাকী ডুবে যে অতিক্রান্ত করলো
এক পূর্ণ গর্ভ ধারণ কাল,সেই-ই অপরাধী?কড়ি ও শৃঙ্গারহীন প্রেমজ বেসাতি,প্রবজ্যা
সেরে ফেরার পথে অলীকের দাবি।যোগীনি কায়ায় অদ্ভুত ঘোর রবি পুত্রের নীলাম্বরি।
অভিশাপ,তুমি কেন ভীত এত? ব্রহ্মাস্ত্র
প্রত্যাহার বিদ্যা যার অধিগত, মেনে নাও,তুমিই সেই চন্দ্রঘন্টা,কাব্য কালরাত্রি।
সাংবাদিক
শোনো,আমি অহল্যা নই.....
আমি প্রশ্ন রাখি স্বয়ং অবতারের
নির্লজ্জতায়,
তর্জনী নির্দেশ করি তার কৃমিকীট সদৃশ
লালসায়,
তুমি তো দ্বিপদী প্রাণী মাত্র,
কবির আসন ছেড়ে এসেছো জমি জর্জর
জাগতিকতায়.....
মহুয়া কৌমার্য কীটদষ্ট এখন,
সুরা প্রাত্যহিকী সহজ করেছে সম্ভোগ
ক্ষমতা,
ভুলিয়েছে ভাষাজ্ঞান,ব্রাহ্মণীশান্ত
মন্ত্রদীক্ষা......
উপেক্ষায় মাড়িয়ে যাচ্ছ প্রতীক্ষা সমূহ,
শূণ্যতার অবসর নেই আর প্রমত্ত প্রমোদসঙ্গী
ভিড়ে....
অথচ প্রিয় পুত্র ছিলে অযোধ্যার,
কৃষ্ণ অঙ্গারে রাঙা ধুলোর সোহাগই ছিলো
শৃঙ্গার....
চূর্ণ আয়নার স্থান চিরদিন বিস্মৃতি
কুঠুরী,
হাহাকারের বিলাসিতা আসবেনা আর,
নিশ্চল চেয়ে দেখবো বুর্জ এ খলিফার মতো
তোমার উত্থিত ধ্বজ বেনিয়া সম্প্রদায়ে,
স্বর্ণ আর আলোর নামে কুম্ভস্থিত মীন নয়,
মুদ্রারাক্ষসে গচ্ছিত হবে তোমার অধিকারে,
তোমার পুরুষকারের সৌজন্য,
বনলক্ষী নির্বাসিত হলো পান্ডববর্জিত
অলীকে....
কাব্যবন্ধ্যা এ সময়ে জানি,
এই লেখারও ভবিতব্য ঠোঙা,
তবু,শুধতে তো হবেই অতীতের পারানি,
(মনে পড়ে?)
নাড়া বেঁধে শিখিয়েছিলে সৎ
সাংবাদিকতা......
মৃত সংলাপ
পূর্ণ কলস হাতে এক মাতৃসন্ধ্যা অপেক্ষায়
ছিলো কোজাগরীর,
তার নিবিড় আদিম সংসারটিতে ।
জুইঁধোয়া রেকাবির পাশে আসন খানির রঙ খানিক
স্বস্তিক ।
পাথুরে সে চরাচরে সেদিন প্লাবন এসেছিল ।
সুখ উপচে উঠলে কখন যে উনোন নিভে যায়,
ঝিঁক খোঁজ রাখে?
পদ্মপাতার নাও ভাসাতে ভাসাতে
ধানের ঝাঁপিটিও ধুয়ে গেলো ক্রমে ।
এরপর বহু বর্ষের খরা দর্শন ।
প্রতিটি অবান্তর সকালের অন্ধকার
ম্লান থেকে ম্লানতর করলো মায়া সংলাপ ।
নক্ষত্রের শেষ আলো পৌঁছনোর সময় প্রাচীন
প্রস্তর যুগের নাম মেট গালা ।
আর পুত্রের দেশে মেঘেদের বেপথু ফেরার আগে,
ছেঁড়া-খোঁড়া চালচিত্রের পাল সম্বল করে,
লক্ষীর শব ভেসে গেলো কলার মান্দাসে ।

খুব ভাল লেখা
ReplyDelete